গত চার বছর কুষ্টিয়া চিনিকলের আখ মাড়াই বন্ধ রয়েছে। এই মিলটি বন্ধ থাকায় এই জেলার আঁখ যাচ্ছে ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ, ফরিদপুর ও দর্শনা চিনিকলে। জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ১২ ডিসেম্বর থেকে কুষ্টিয়ার চাষীরা আঁখ কাটা কার্যক্রম শুরু করেছে। কুষ্টিয়া সুগার মিল এলাকার আঁখ কেটে এনে কুষ্টিয়া সুগার মিলের ছোয়ায় সবাজোন স্কেলে ওজন করে বাইরের জেলাগুলোতে অন্য মিলে পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ চার বছর আঁখ মাড়াই ও চিনি উৎপাদন বন্ধ থাকায় এ জেলার মানুষ দেশী চিনি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মিলের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে চাষীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আঁখ চাষ থেকে বিমুখ হচ্ছে কৃষক।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, মিলটি চালু থাকা অবস্থায় এখানে দৈনিক মাড়াই ও উৎপাদন ক্ষমতা ১৫০০ মেট্রিক টন ও বার্ষিক মাড়াই ক্ষমতা ছিল ১৫ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু বন্ধের চার বছর পরও মিলটি চালুতে সরকারি উদ্যোগ না থাকায় মিলজোনের আওতায় আঁখ উৎপাদন মারাত্মক হ্রাস পেয়েছে।
এবিষয়ে কুষ্টিয়া সুগার মিলের সাব জোনের সিআইসি আখতারুজ্জামান বলেন, প্রায় ২৮শ মেট্রিকটন আঁখ সংগ্রহের মাত্রা রয়েছে। আঁখ বিক্রিতে চাষীদের যেন কোন সমস্যা না হয়, সেদিকে আমরা নজরদারি করছি। আমরা আশাবাদী চাষীরা তাদের ন্যায্য মূল্য পাবে। তবে বাইরের জেলা গুলোতে আঁখ পাঠাতে ভাড়া বেশি পড়ে যায়। তিনি আরো জানান, কুষ্টিয়া সুগার মিল থেকে আঁখ যাচ্ছে ঝিনাইদহ মোবারকগঞ্জ। এছাড়াও কুমারখালির আঁখ ফরিদপুর, ভেড়ামারা ও আল্লাহরদর্গা এলাকার আঁখ যাচ্ছে দর্শনা চিনিকলে। তিনি বলেন কুষ্টিয়া মিলের যে এরিয়া আছে এটা হাইলেন্ট। হাইলেন্ট অঞ্চলে আঁখ ভালো হয়। এই মিলটিতে পুনরায় আঁখ মাড়াই কার্যক্রম চালু হলে এখানকার প্লান্টেশন ও আঁখ চাষের কৃষক বেড়ে যাবে। এতে মিলটি প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন মাস আঁখ মাড়াই কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে।