ইউটিউবে চার সপ্তাহে নাটকটির ভিউ হয়েছে ৬৫ লাখ। ফেসবুকের রিল ও স্টোরিতেও ঘুরছে নাটকটির নানা দৃশ্য। কী আছে এই নাটকে, কেন মজলেন দর্শক?
গল্পটা শুভ আর চুমকির। চুমকি পড়ালেখায় ভালো। এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ–৫ তাঁর। বাবার ইচ্ছা ছিল তিনি বুয়েটে পড়বেন; কিন্তু বুয়েটে সুযোগ হয় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তির সুযোগ পান না চুমকি। খারাপ লাগলেও বাবা হতাশ হন না, আশা হারান না। বলেন, ‘আমার অর্ধেক সম্পত্তি বিক্রি করে তোকে আমি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করব।’
কারও কারও ক্ষেত্রে পড়ালেখায় ভালো ফল করতে না পারলে পরিবার হতাশ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ নিজের ক্ষতিও করে ফেলে। পত্রপত্রিকায় হরহামেশাই এ খবর দেখা যায়। নেতিবাচক এই দিকটিকে এ দৃশ্যের মধ্য দিয়ে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা খুব সহজেই ভালো লাগার উদ্রেক করেছে।
একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন চুমকি। মামির জোরাজুরিতে মামার বাসায় এসে ওঠেন তিনি। তাঁর থাকতে যেন কোনো কষ্ট না হয়, এ কারণে মামি তাঁর ঘরে এসি লাগিয়ে দেন। অন্যদিকে অল্প বেতনের একটা চাকরি করেন শুভ। মা-বাবা বেঁচে নেই। আপা-দুলাভাইয়ের সঙ্গে থাকেন। তাঁর ঘরের ফ্যানটাও ঠিকমতো চলে না। তারপরও সব মেনে নিয়েই দিন কাটান শুভ।
চুমকির সঙ্গে খালার সূত্রে শুভর পরিচয়। চুমকির মামি সম্পর্কে শুভর খালা হন। শুভ আর চুমকির একটি বিষয়ে মিল; দুজনেই কবিতা পড়েন, কবিতা ভালোবাসেন। আর অমিল হলো ‘ইলিশ মাছ’ প্রশ্নে। চুমকি ‘ইলিশ মাছ’ পছন্দ করেন না। শুভ ইলিশ মাছ খেতে খুব ভালোবাসেন। চুমকিকে শুভ জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনি ইলিশের লেজভর্তা খেয়েছেন কখনো?’ চুমকি জবাবে নানা কথা বলেন। জবাবে শুভ তাঁকে মাওয়া ঘাটে গিয়ে ইলিশ মাছ ভাজা আর লেজভর্তা খেয়ে পরখ করে দেখতে বলেন। কিন্তু চুমকি রাজি হন না।
বাজি ধরেন শুভ। তাঁকে নিয়ে মাওয়া ঘাটে যাবেন ইলিশ খেতে। মানিব্যাগ থেকে ৩৩৪ টাকা বের করেন, অগ্রিম বাজির টাকা জমা দেওয়ার জন্য। চুমকি বলেন, মাত্র ৩৩৪ টাকা! ‘এইটাই এখন আমার কাছে সর্বস্ব’ জবাবে বলেন শুভ। কেন আপনি ওই গানটা শোনেননি, ‘ধরেছি আমার সর্বস্ব বাজি’। তারপর কৌশল করে শুভ চুমকিকে নিয়ে মাওয়া ঘাটে ইলিশ মাছ খেতে যান। খাবার টেবিলে ‘ইলিশ মাছ’ নিয়ে কবিতা আছে কি না প্রশ্নে চুমকি বুদ্ধদেব বসুর ‘ইলিশ’ কবিতা থেকে আবৃত্তি করে শোনান। শুভ জানতে পারেন চুমকিও কবিতা ভালোবাসেন, কবিতা পড়েন। চুমকির প্রতি শুভর মুগ্ধতা বহুগুণে বেড়ে যায়।
শুভর মানিব্যাগে ৩৩৪ টাকা থাকা; তাঁর ‘অপারগতা’, খাবার টেবিলে সবার সঙ্গে আনন্দ, হাসি আর কবিতা পাঠের দৃশ্য নাটকটিকে প্রাণবন্ত করেছে। ইলিশ মাছ নিয়ে মানুষের আগ্রহও উঠে এসেছে এই দৃশ্যে, যা দর্শককে আকৃষ্ট করেছে।
ক্রমে শুভ আর চুমকির সম্পর্ক গাঢ় হয়ে উঠতে থাকে। শুভকে ভালোবেসে ফেলেন চুমকি। শুভর ভালোবাসা টের পাওয়া যায় যখন তাঁর দুলাভাই নিজের খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে চুমকির বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টা তাঁকে জানান। অসহায় কণ্ঠে শুভকে বলতে শোনা যায়, ‘যাও শুভ আরও যাও, বামন হয়ে চাঁদ ধরতে যাও। নিজের আওকাত বুঝে চলতে হয়।’ দৃশ্যপরম্পরায় শুভর এই অসহায়ত্ব দেখে যে কারোরই মন কেমন করে উঠবে।
শুভ ক্রমে নিজেকে চুমকির থেকে দূরে সরিয়ে নেন। ফোন দিলে ধরেন না। যোগাযোগ করেন না। তারপর অনেক চেষ্টা করে চুমকি শুভর সঙ্গে দেখা করেন। শুভ বলেন, ‘অভিনন্দন। আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে… বড়লোকের ছেলে, বড় বেতনের চাকরি করে।’ নাটকে কোথাও চুমকি আর শুভ কেউ কাউকে ভালোবাসার কথা বলেননি। এই যে ভালোবাসি না বলেও একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি ফুটে উঠেছে; এ কারণে কি দর্শক নাটকটা পছন্দ করলেন?
শুভর মানিব্যাগে ৩৩৪ টাকা থাকা; তাঁর ‘অপারগতা’, খাবার টেবিলে সবার সঙ্গে আনন্দ, হাসি আর কবিতা পাঠের দৃশ্য নাটকটিকে প্রাণবন্ত করেছে। ইলিশ মাছ নিয়ে মানুষের আগ্রহও উঠে এসেছে এই দৃশ্যে, যা দর্শককে আকৃষ্ট করেছে।
ক্রমে শুভ আর চুমকির সম্পর্ক গাঢ় হয়ে উঠতে থাকে। শুভকে ভালোবেসে ফেলেন চুমকি। শুভর ভালোবাসা টের পাওয়া যায় যখন তাঁর দুলাভাই নিজের খালাতো ভাইয়ের সঙ্গে চুমকির বিয়ের প্রস্তাবের বিষয়টা তাঁকে জানান। অসহায় কণ্ঠে শুভকে বলতে শোনা যায়, ‘যাও শুভ আরও যাও, বামন হয়ে চাঁদ ধরতে যাও। নিজের আওকাত বুঝে চলতে হয়।’ দৃশ্যপরম্পরায় শুভর এই অসহায়ত্ব দেখে যে কারোরই মন কেমন করে উঠবে।
শুভ ক্রমে নিজেকে চুমকির থেকে দূরে সরিয়ে নেন। ফোন দিলে ধরেন না। যোগাযোগ করেন না। তারপর অনেক চেষ্টা করে চুমকি শুভর সঙ্গে দেখা করেন। শুভ বলেন, ‘অভিনন্দন। আপনার বিয়ে ঠিক হয়েছে… বড়লোকের ছেলে, বড় বেতনের চাকরি করে।’ নাটকে কোথাও চুমকি আর শুভ কেউ কাউকে ভালোবাসার কথা বলেননি। এই যে ভালোবাসি না বলেও একে অপরের প্রতি ভালোবাসার বিষয়টি ফুটে উঠেছে; এ কারণে কি দর্শক নাটকটা পছন্দ করলেন?