টানা বৃষ্টিতে আবারও জলাবদ্ধ হয়েছে ঝিনাইদহ শহর। ডুবে গেছে বিভিন্ন এলাকা। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৬৮ বছর পার হয়ে গেছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ-ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বর্ষায় একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়া নিয়মিতভাবে ড্রেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না। ব্যাপারীপাড়া, পাগলাকানাই, আদর্শপাড়া, উপশহরপাড়া, হামদহ, আরাপপুরসহ অন্তত ৩০ এলাকায় পানি জমে রয়েছে। অনেক ড্রেনের সঙ্গে খাল, পুকুর বা নালার সংযোগ না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে পানি ঢুকে পড়ছে বাড়িঘরেও। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছেন, শহরের ছোটবড় সব খাল, পুকুর ও নালা ভরাট করে বাড়ি তৈরি হওয়ায় পানি বেরোনোর কোনো পথ নেই। নিষ্কাশনের একমাত্র ভরসা পৌরসভার ড্রেন। পাড়ায় পাড়ায় সমস্যা চিহ্নিত করে অস্থায়ী ভিত্তিতে পানি বের করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জন রাজনৈতিক নেতা মেয়র ও কয়েকজন আমলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু পরিকল্পিত ড্রেন তৈরিতে কেউ কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও কাক্সিক্ষত নাগরিকসেবা মিলছে না। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ ও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা দিনদিন বাড়ছে।
পৌর প্রকৌশলী রাশেদ আলী খান বলেন, ‘এলজিএসপি ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্পের আওতায় নতুন আরসিসি ড্রেন ও প্রায় ১৮ কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাস্তবায়ন হলে দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে।’
পৌর প্রশাসক রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-পুকুর ভরাট এবং ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্থায়ী সমাধানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাময়িকভাবে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে।’