কুষ্টিয়া পৌরসভার সাবিনা ইসলাম নামের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের অর্থ উন্নয়ন কাজে সঠিক ভাবে ব্যবহার না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। সাবিনা ইসলাম কুষ্টিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী পানি সরবরাহ ও পায়ঃ নিষ্কাশন হিসাবে কর্মরত আছেন।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাষ্টের অর্থায়নে ২০১৭ সালে কুষ্টিয়া পৌরসভায় সৌর বিদ্যুৎ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়কে ২৮৫ টি পোল সহ সোলার সড়ক বাতি সংযোজন করার অনুমতি দেয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে চার কোটি ৯৮ লক্ষ ১৮ হাজার টাকা। তবে সরজমিনে গিয়ে দেখলে নজরে পরে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি। কোটি কোটি টাকার প্রকল্পের নিম্নমানের একটি লোহার পাইপ, এক গজ তার ও সোলারসহ সড়ক বাতি লাগিয়ে দায়িত্ব শেষ করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। শুধু তাই নয়, ছয় টাকার জিনিস চল্লিশ টাকায়, দুই হাজার টাকার জিনিস পাঁচ হাজার টাকায় এবং কামরুল হাসান সিদ্দিক পৌর শিশু পার্কেও প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতি করেছেন। শিশু পার্কের ক্যাবল কারের ক্যাবল( তার) না পরিবর্তন করে একাধিকবার অফিসে বিল ভাউচার করার এমন অভিযোগও উঠেছে সাবিনা ইসলাম নামের এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন পৌরসভার কর্মচারী জনান, সাবিনা ইসলাম প্রতিটা খ্যাতে দুর্নীতি করে আসছেন। ওনার যে খ্যাতে হাত দিবেন সে ক্ষেত্রেই দুর্নীতি আছে। কুষ্টিয়া পৌরসভার শৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের সৌরবিদ্যুৎ পুরো সেটআপ যেমন তার,পাইপ এবং মিস্ত্রি খরচ দিয়ে ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যায়। আপনারা খোঁজ নিলে জানতে পারবেন ১ লক্ষ্য থেকে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত অফিসে বিল ভাউচার ধরা হয়েছে। শহরের কামরুল হাসান সিদ্দিক পৌর শিশু পার্কেও প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে তিনি দুর্নীতি করেছেন। ক্যাবল কার সহ প্রত্যেকটা গেমসে সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিসপত্র লাগিয়ে নতুন বিল ভাউচার করেন। শিশু পার্কের সুপারভাইজার রঞ্জু তিনিও এর সাথে জড়িত আছেন। আমার নিজ চোখে দেখা আছে এটা। ক্যাবল কারের ক্যাবল খুলে আবার পুনরায় লাগানো হয়েছে। সুশীল কুমার নামের একজন মেকানিক্যাল ছিলেন তিনি এই তার লাগাতে নিষেধ করেছিলেন বলে পরে তার চাকরি চলে যায় আর এটা সাবিনা ইসলাম ম্যডাম করিয়েছিলেন।
সুশীল কুমার জানতেন পৌর মেয়র সাহেব নতুন ক্যাবল কেনার জন্য টাকা দিয়েছেন। একটি নতুন ক্যাবলের দাম প্রায় ১ লক্ষ টাকা। পুরাতন ক্যাবল লাগিয়ে নতুন ক্যাবলের বিল ভাউচার তুলে নিয়ে নিবেন সাবিনা ইসলাম। পরবর্তীতে ওই ক্যাবল চারদিন পরে ছিড়ে যায়। তার কারনে সুশীল কুমার মেকানিক্যাল তাকে বলেছেন যে ম্যাডাম আমি কিন্তু আপনাকে বলেছিলা পুরাতন ক্যাবল লাগিয়েন না। তিনি আরও জানান, মাঝে মাঝে এখানে বাইরে থেকে মিস্ত্রি নিয়ে এসে কাজ করানো লাগতো। আমরা মিস্ত্রি সাথে থাকতে থাকতে সব কাজ শিখে গিয়েছিলাম তারপর থেকে আমরায় কাজ করতাম। আমাদের একশো, দেড়শো টাকা করে হাজিরার দিতেন আর অফিসে এটার বিল ধরতে ছয় হাজার,আট হাজার,১০ হাজার টাকা করে। আপনারা ২০১২ সাল থেকে ১৫ সালে পর্যন্ত অফিসে বিল ভাউচার ঘাটলে পেয়ে যাবেন। এভাবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আমাদের ব্যবহার করেছেন। অফিসে দেখিয়েছেন যে সাবিনা ইসলাম ম্যডাম ঢাকা থেকে লোক নিয়ে এনে কাজ করিয়েছেন। পার্কের যে ট্রেন চলে সেখানে কোন সেকেন্ড হ্যান্ড জিনিস পত্র লাগানো সম্পূর্ণ নিষেধ। সেখানেও বড়বাজার লোহা পট্টি থেকে পুরাতন মালামাল কিনে এনে সেখানে ব্যবহার করে করেছে। এই হল তাদের অবস্থা তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে তাদেরকে শোকজ,সাসপেনসহ বদলি করেন। এক কথায় সাবিনা ম্যাডাম যেখানে যেখানে কাজ করেছেন সেখানেই অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একজন কর্মচারী বলেন, পৌরসভার বিদ্যুৎ লাইনে রড লাইটের যে ব্যালেন্সর ব্যবহার করা হয় সেখানে অনিয়ম করেছেন সাবিনা ম্যাডাম। এক একটি ব্যালেন্সসারের কেনা পড়ে দুইশোত বিশ টাকা আর দেখাতেন সাড়ে তিনশো টাকা করে। ২০১২ সালের দিকে এনার্জি লাইট এর পুরো সেড ক্রয় করেছিলেন একুশশো থেকে বাইশশো টাকা করে আর অফিসে বিল ভাউচার করেন ৫২০০ টাকা করে। এনার্জি লাইটের সেড এটা শহরের সব জায়গায় লাগানো হয়েছে তাহলেও বুঝেন সারা শহর মানে কত টাকা। তিনি আরো জানান, রড লাইটের স্টাটার কেনা হয় ৬ টাকা করে আর অফিসে বিল ভাউচারে দেখান ৪৫ টাকা করে। এই ধরনের কাজ ২০১২ সাল থেকে ১৭ সাল পর্যন্ত একভাবে করে গেছেন সাবিনা ম্যাডাম। আপনারা মাস্টার ইলেকট্রনিক্স ও আল হেলাল ইলেক্ট্রনিক্সে গেলে বুঝতে পারবেন। আপনারা তার সম্পদের খোঁজ লাগান তাহলে বুঝতে পারবেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার (সহকারী প্রকৌশলী পানি সরবরাহ ও পায়ঃ নিষ্কাশন) সাবিনা ইসলাম জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। অফিসে আসুন কথা বলি কাগজ পত্র দেখুন। এ বিষয়ে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিনকে ফোন করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিকুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কল করলে ফোন রিসিভ না করাই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।