পায়ের শিরায় টান ধরার সমস্যা যদি ঘন ঘন হয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যদি দেখেন টান ধরার পর পায়ের পেশি মারাত্মক ভাবে ফুলে উঠছে এবং সেখানকার ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
মাংসপেশিতে টান পড়া বা শরীরের কোন অংশ মচকানো বেশ সাধারণ একটি সমস্যা। যাকে বিশেষজ্ঞের ভাষায় মাসল পুল, মাসল সোরনেস, স্ট্রেইন, স্প্রেইন, ক্র্যাম্প, স্প্যাজম ইত্যাদি বলা হয়ে থাকে।
ঘুমের মধ্যে বা একটানা অনেক ক্ষণ বসে বা শুয়ে থেকে ওঠার সময়ে পিঠ ও পায়ের পেশিতে টান ধরে অনেকেরই। বিশেষ করে রাতে ঘুমোনোর সময়ে পায়ের শিরায় টান ধরে যাওয়ার সমস্যা কমবেশি অনেকেরই আছে। ঠান্ডার সময়ে এই সমস্যা আরো বেড়ে যায়। রাতে ঘুমের মধ্যে শিরায় টান ধরে যন্ত্রণা শুরু হলে, তা কমতে অনেক সময় লাগে। পা অবশ হয়ে যায়।
গবেষকেরা দাবি করেছেন, পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষজনই পায়ের শিরায় টান ধরার মতো সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা থেকে রেহাই পেতে কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন নেই। কেবল পাতে রাখতে হবে ভিটামিন কে২ সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন কে পেশি ও শিরার ব্যথা প্রদাহ কমাতে পারে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।
‘জামা ইন্টারনাল মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গরমে ঘাম হয়ে শরীর থেকে বেশি পরিমাণে জল বেরিয়ে যায় বলে শরীরে জলের ঘাটতি হয়। তাই ঘাটতি হয় পেশির স্থিতিস্থাপকতায়। শীতে আবার জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে ফেলেন অনেকে। এতেও শিরায় টান ধরার সমস্যা বাড়ে। আবার হার্টের অসুখ, কিডনির রোগ, পারকিনসন্স ডিজ়িজ় ডায়াবিটিস, লিভার সিরোসিসের মতো রোগ থাকলেও পায়ের শিরায় টান ধরার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
তবে গবেষকরা এও বলেন যে ভিটামিন কে২ সাপ্লিমেন্ট যদি নিতে হয়, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো নেয়াই ভাল। আবার এর পরিবর্তে প্রতিদিনের ডায়েটে রাখা যাবে কয়েকটি খাবার, যেমন— পালং শাক, ব্রোকোলি, বাঁধাকপি, গাজর, সয়াবিন, ডিম, মুরগির মাংস। ডালিমেও প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। নিয়মিত ডালিমের রস খেতে পারলেও উপকার পাওয়া যাবে।
এছাড়া পায়ের শিরায় টান ধরার সমস্যা যদি ঘন ঘন হয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। যদি দেখেন টান ধরার পর পায়ের পেশি মারাত্মক ভাবে ফুলে উঠছে এবং সেখানকার ত্বকের রং বদলে যাচ্ছে, তা হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।