শীতকালে ঘরের অ্যালার্জেন, নোংরা, ধুলো, পোষ্য প্রাণীর খুশকি, ছাঁচসহ নানা কারণে অ্যালার্জির সংক্রমণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। এই অ্যালার্জেনগুলো হাঁপানির উপসর্গগুলিকে প্ররোচিত করতে পারে।
অ্যাজমা বা হাঁপানি পুরোপুরিভাবে ভালো হয় না। কখনো নিয়ন্ত্রণে থাকে, আবার কখনো কখনো বেড়ে যায়, বিশেষ করে শীতে। হাঁপানি বা অ্যাজমা একটি মারাত্মক ও দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক ব্যাধি। ঋতু পরিবর্তন এর উপসর্গগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে উপসর্গগুলো এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে বাইরে যাওয়া অথবা হালকা ব্যায়াম করলেও কাশি এবং হাঁচির সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু করতে পারে।
যে সমস্ত মানুষদের হাঁপানি আছে, তাদের নির্দিষ্ট কিছু উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বায়ুপথে প্রদাহ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যখন বায়ুপথ স্ফীত হয়, সেটি সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং যথাযথ ভাবে প্রশ্বাস নেয়া কঠিন হয়ে। এ কারণেই শীতকাল হাঁপানির সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তোলে।
হাঁপানি রোগীদের জন্য ঠান্ডা বাতাস কেন কষ্টকর তার বেশ কিছু কারণ আছে।
মানুষের শরীরে বায়ু চলাচলের পথে তরলের একটি স্তর থাকে। তাই, যখন কেউ ঠান্ডা এবং শুষ্ক বাতাস গ্রহণ করেন, তখন স্তরটি ঘরের তাপমাত্রার তুলনায় দ্রুত উদ্বায়ী হতে থাকে। এছাড়া ঠান্ডা বাতাস হিস্টামিন উৎপাদনকে উত্তেজিত করে।
শীতকালে শরীর গড়ের তুলনায় বেশি শ্লেষ্মা নিঃসৃত করে। যা মানুষকে ঠান্ডা, কাশি এবং অন্যান্য সংক্রমণের প্রতি অনেক বেশি সংবেদনশীল করে তোলে।
এছাড়া শীতকালে ঘরের অ্যালার্জেন, নোংরা, ধুলো, পোষ্য প্রাণীর খুশকি, ছাঁচসহ নানা কারণে অ্যালার্জির সংক্রমণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। এই অ্যালার্জেনগুলো হাঁপানির উপসর্গগুলিকে প্ররোচিত করতে পারে।
রকম অবস্থা প্রতিরোধ করার জন্য কিছু টিপস মেনে চলতে পারেন—
১. ভারী ব্যায়াম শুরুর আগে বয়স ও ফিটনেস অনুযায়ী (৬ থেকে ১৫ মিনিট) কিছুটা হালকা ব্যায়াম (ওয়ার্মআপ) করে নিতে পারেন। ঠান্ডা, শুষ্ক ও দূষিত বাতাস পরিহার করে কিছুটা আর্দ্র, বিশুদ্ধ ও উষ্ণ বাতাসে ব্যায়াম করতে পারেন। ব্যায়াম করার সময় কখনো মুখ দিয়ে নিশ্বাস নেবেন না। ঠান্ডা বাতাসে ব্যায়াম করার সময় আপনার নাক ও মুখ স্কার্ফ বা ফেস মাস্ক দিয়ে ঢেকে নিন।
২.যার হাঁপানির সমস্যা আছে, তার ঘরে কম্বল ও কার্পেট না রাখাই ভালো। কারণ, এগুলোয় বেশি ধুলা জমে। ম্যাট্রেস, বালিশ ও লেপকে ধুলা প্রতিরোধী জিপারযুক্ত কাভার দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। চাদর ও কম্বল মাঝেমধ্যে গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। খড় দিয়ে তৈরি কোনো বালিশ বা ম্যাট্রেস ব্যবহার করবেন না।
ঘরের ভেতরে গুমোট মনে হলে সেই পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন। ধুলাযুক্ত কোনো কিছু ঝাড়া দেয়ার সময় দরজা-জানালা সম্পূর্ণ খুলে দিন।
৩.কাঠ, কেরোসিন বা গ্যাস দিয়ে রান্নার সময় ধোঁয়া থেকে বাঁচতে রান্নাঘরের জানালা কিছুটা খুলে রাখুন।
৪.বাড়ির আশপাশে গাড়ি বা ফ্যাক্টরি থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলাবালু ও ফুলের পরাগরেণু থেকে বাঁচতে ঘরের জানালা বন্ধ রাখুন।
৫.হাঁপানি রোগী যখন ঘরের বাইরে থাকেন, শুধু তখনই ফ্লোর ঝাড়ু দেয়া, দেয়ালে রং করা, পোকা মারার স্প্রে ব্যবহার, ঝাঁজালো রান্না করে নিন। সেটা সম্ভব না হলে হাঁপানি রোগীকে এক ঘরে রেখে অন্য ঘরে কাজ করুন। আর এই সময়ে রোগীকে অবশ্যই মাস্ক বা স্কার্ফ দিয়ে মুখ ঢেকে রাখতে হবে।