সরকারের টাঙানো নোটিশটি মাঝামাঝি বরাবর ছিঁড়ে ফেলা
কুষ্টিয়ায় সরকারি জমি দখল করে বহুতল ভবন করার অভিযোগ রয়েছে কুষ্টিয়া বিল্ডাসের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে পত্র পত্রিকায় লেখালেখি ও সাধারণ মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ডেপুটি কমিশনার (কুষ্টিয়া) (খ) তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তির ২৩ নং মজমপুর মৌজার ৮৯৫ খতিয়ানের ১৬৬৪ নাম্বার দাগে মোট জমি ০.১২৭৫ শতাংশ এর মধ্যে সরকারি জমির পরিমাণ ০.০১৪২ শতাংশ ও ০.১১৩৩ শতাংশ মালিকানা জমির জায়গার মালিক কুষ্টিয়া বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে বিল্ডিং করার জন্য দেন। অথচ কুষ্টিয়া বিল্ডার্স মালিকানা জায়গা সহ সরকারি জায়গার উপরে বহুতল ভবন হাঁকান। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগে কুষ্টিয়া বিল্ডার্স নয় তালা একটি বিল্ডিং করেছে। যার নিচতলায় তিনটে দোকান রয়েছে। নিচে রয়েছে পার্কিং ব্যবস্থা। কিন্তু ভূমি অফিসের ম্যাপে সামনে যে অংশে সরকারি জমি ০.০১৪২ শতাংশ পড়ে থাকার কথা সেই জায়গাটির উপরে বিল্ডিংটি দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই নোটিশ টাঙ্গানোর পর আরো জোরেসোরে বিল্ডিং এর কাজ সমাপ্ত করতে লেগেছে কুষ্টিয়া বিল্ডার্স। সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসের টাঙানো নোটিশ বোর্ড মাঝামাঝি বরাবর ছিঁড়ে ফেলা। ৯ তলা বিল্ডিংয়ের ভিতর সরকারি জমি প্রকাশের পর থেকেই তড়িঘড়ি করছে বিল্ডিংটির কাজ শেষ করতে। আরও জানা যায় এর ভিতর কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের অধিকাংশ ফ্ল্যাট বিক্রয় করে ফেলেছে। এছাড়াও বিল্ডিংয়ে ফ্ল্যাট ভাড়ার নোটিশ টাঙ্গানো হয়েছে। ঝকঝকে চকচকে সাত্তার টাওয়ার কুষ্টিয়া বিল্ডার্স নামে বিল্ডিং এর নামফলক টাঙ্গানো ও কুষ্টিয়া বিল্ডার্স প্রকল্প বাগান বিলাস ৪ নামকরণ করা হয়েছে। অথচ তার পাশে জরাজীর্ণ অবহেলিত ও মাঝ বারবার ছিঁড়ে ফেলা অবস্থায় রয়েছে সরকারি নোটিশ বোর্ড ।
স্থানীয়রা জানায়, কুষ্টিয়া বিল্ডার্সের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে বিল্ডিং তৈরির অভিযোগের কথা আমরাও জেনেছি। অনেকে এই বিল্ডিং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে শুনেছি। সাংবাদিকদেরও আসতে দেখেছি। অনেক পত্রিকায় নিউজও হয়েছে। তারপরেও তো ফ্ল্যাট বিক্রয় চলছে। এসব ফ্লাট বিক্রয় করে কুষ্টিয়া বিল্ডার্স চলে গেলে এক সময় ফ্ল্যাট ক্রয়কারীরাই তো বিপদে পড়বে। আসলে এই বিষয়টি দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। নির্দিষ্ট কতৃপক্ষ শুধু সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ না থেকে অতি দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এর সমাধান করা উচিত। এবং অভিযুক্ত দের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত যাতে ভবিষ্যতে কেউ সরকারি জমি দখল করে সাধারণ মানুষকে ধোকা দিতে না পারে।
একটি সূত্রে জানা যায়, যে সরকারি বিধি সম্পত্তি আছে। এই বিল্ডিং এর সরকারি জায়গায় বিষয়ে পর্যালোচনা চলছে। তদন্ত শেষে এই বিল্ডিং এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে কতৃপক্ষ।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিফাতুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।