শেষ দুই ওভারে রান লাগত ১৮। ওরলা প্রেনডারগাস্টের করা ১৯তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড স্বর্ণা আকতার। সেই ওভারেরই চতুর্থ বলে রিতুমনি আউট হওয়ার আগে খেলেন দুটি ডট বল। জান্নাতুল ফেরদৌস খেলেন আরও দুই ডট।
বাংলাদেশের ১২ বলে ১৮ রানের সমীকরণ তাতে বেড়ে দাঁড়ায় ৬ বলে ১৮ রান। অন্যপ্রান্তে ১২ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকা শারমিন আকতার শেষ ওভারে এই কঠিন সমীকরণ মেলাতে পারেননি।
১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে বাংলাদেশ ১৫৭ রানে থেমে টি–টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে হেরেছে ১২ রানে। তাতে হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের মেয়েদের আরও একটি রেকর্ড গড়ার সুযোগ।
ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজে পাওয়া টানা জয়ের ছন্দেও ছেদ পড়ল এই হারে। ৩–০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি–টোয়েন্টি সিরিজটা শুরু হলো হার দিয়ে। আয়ারল্যান্ড নারী দল মিরপুরে যেটা করতে পারেনি, সেটাই করল সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০২৩ সালে ১৪৫ রান তাড়া করে জেতেছিল বাংলাদেশ। আজ আইরিশ মেয়েদের ১৬৯ রান তাড়া করে জিতলে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডটা নতুন করে লিখতে পারত বাংলাদেশ নারী দল।
এর আগে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজেদের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ, দ্বিতীয় ম্যাচে আসে ঘরের মাঠে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এবারের সিরিজে বাংলাদেশের মেয়েরা তাই রেকর্ড গড়ার মধ্যেই ছিল। আজও ছিল সেরকমই এক সুযোগ। ১৭০ রানের লক্ষ্যে দুই ওপেনার দিলারা আক্তার ও শোবানা মোস্তারির গড়েন শতরানের জুটি। ৪৬ রান করে শোবানা যখন আউট হয়েছেন তখন বাংলাদেশের রান ১০৩।
যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি ও প্রথম শতরানের জুটি। কৃতিত্বটা বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে তো দিতেই হবে। তবে তাতে আয়ারল্যান্ড ফিল্ডারদের অবদানও কম নয়! আইরিশ ফিল্ডাররা এত বেশি ক্যাচ ছেড়েছেন যে হিসাব রাখাই কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। বেশ কয়েকটি রানআউটের সুযোগও মিস করেছে তারা।